দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যশোর শহরে পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের বাসাবাড়িতে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় শামীম হোসেন (৩২) ওরফে ‘স্পাইডার শামীম’ এবং তার স্ত্রী বৃষ্টি খাতুনকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চাঞ্চল্যকর এ চুরির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শামীম হোসেনের উচ্চতা প্রায় চার ফুট। তিনি উঁচু দেয়াল টপকে বা ছোট ছিদ্র দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে চুরি করার কৌশলের কারণে এলাকায় ‘স্পাইডার শামীম’ নামে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাধারণ মানুষের পরিবর্তে পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের ফাঁকা বাসাবাড়িকে লক্ষ্য করে চুরি করতেন। চাকরির কারণে এসব পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকায় সেই সুযোগ কাজে লাগাতেন তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার এড়াতে শামীম মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন না। নিজের ও স্ত্রীর নামে যশোর শহর ও শহরতলীতে তিনটি বাড়ি থাকলেও তারা শহরের শেখহাটি বাবলাতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পুলিশ জানায়, গত এক বছর ধরে যশোরে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের বাসায় একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও অভিযুক্তকে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। সর্বশেষ গত ২৪ জুন শহরের কাঠালতলা এলাকায় এক সেনা কর্মকর্তার বাসা থেকে স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের পর তদন্তে অগ্রগতি আসে।
উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই অলোক কুমার দে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজনের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য শনাক্ত করা হয়। পরে অনলাইনে জুয়া খেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্যের সূত্র ধরে শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, মাঠপর্যায়ে চুরির কাজ শামীম একাই করলেও তার স্ত্রী বৃষ্টি খাতুন তাকে সহযোগিতা করতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। শামীমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়। এ সময় বৃষ্টি খাতুন সেগুলো বের করে দেন বলে পুলিশের দাবি।
এ ঘটনায় শামীম হোসেন ও বৃষ্টি খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর এলাকাবাসী ও একই ভবনের অন্যান্য ভাড়াটিয়ারা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, শামীমকে দেখে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে, তা তারা আগে ধারণা করতে পারেননি।
এমএম/